একটি সাইটের ডিজাইন শুধুমাত্র তার সৌন্দর্যের উপরে নির্ভর করে না, এটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকেও প্রভাবিত করে। সবার জন্য প্রবেশযোগ্য ডিজাইন করার দক্ষতা অর্জন করা ব্যাপক এবং সমৃদ্ধ একটি প্রক্রিয়া।
প্রবেশযোগ্য ডিজাইন বা অ্যাক্সেসিবিলিটির ধারণা সেই সময় থেকেই শুরু হয়েছিল যখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সব ধরণের মানুষ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী, প্রায় ১৫% জনসংখ্যা কোনো না কোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকেন। NYU এর এই তথ্য আমাদের প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল অভিজ্ঞতা পরিষ্কার এবং সংগঠিত থাকা উচিত যাতে তারা সকলের জন্য সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়।
থেকে একদম সরাসরি বললে, ডিজিটাল অ্যাক্সেসিবিলিটির উন্নতি কোম্পানির মুনাফার পক্ষে স্বস্তিদায়ক হতে পারে। ২০১৬ সালের একটি পরিসংখ্যান জানায়, উদ্যোক্তারা যদি ডিজিটাল অ্যাসেসিবিলিটির প্রতি মনোযোগ দিয়ে থাকেন, তবে তাদেরকে প্রতি বছর অন্তত $৬০০ বিলিয়ন ডলার আরো আয় করতে সাহায্য করতে পারেন।
একটি ছোট কাহিনী ভাবুন: হারিস একজন তরুণ ডিজাইনার। সে শুরু থেকেই জানতে চেয়েছিল, কিভাবে ডিজাইন করি যাতে সবার জন্য সমান প্রবেশযোগ্য হয়। একদিন, সে একটি ধর্মীয় সমাবেশে মানুষের সাথে কথা বলার সময় একজন স্নায়ুবিক বিশ্লেষক উইলসনকে দেখেছিল। উইলসন বলেছিলেন, "আমার মত চিন্তাভাবনা থাকা অতি গুরুত্বপূর্ণ, অতএব ডিজাইনেও আমাদের চিন্তাধারা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।” হারিস তখন একটি নতুন যুগের ডিজাইন তৈরির জন্য অনুপ্রাণিত হয়।
প্রথম যোগাযোগে সংস্কৃতির পরিচয় দেওয়া হয়। একজন ব্যবহারকারী একটি সাইটে প্রথমবার প্রবেশের পর হোস্ট করা ডিজাইন তার আস্থা এবং সন্তুষ্টি তৈরিতে ভূমিকা রাখে। গবেষণা দেখায়, মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে একজন ব্যবহারকারী সিদ্ধান্ত নেন যে সাইটটি ব্যবহার করে তারা কী সুবিধা পাবে।
ডিজাইন একটি শিল্পকর্মের মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু বৃহত্তর জনগণের জন্য সংশ্লিষ্ট এবং আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করতে গেলে আমাদের সৃজনশীলতার প্রয়োগ করতে হবে। তাই, সিটি ডিজাইনসমূহের মধ্যে কম্প্যাক্ট এবং পরিষ্কার কিছু পদ্ধতি নিয়ে কাজ করতে হবে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাইটের প্রবেশযোগ্যতা নিয়ে কাজ করেছে, এবং তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্পের মধ্যে শতগুণ ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টি সংগ্রহ করেছে। তাঁদের ফোকাস ছিল বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় জনগণের সাথে সম্পর্কিত সাইট তৈরি করা, যাতে প্রতিবন্ধী অন্তর্ভুক্ত থাকার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এখানে উপস্থিত হতে পারে।
ব্যবহারকারীর প্রতিক্রিয়া একটি ডিজাইন প্রক্রিয়ার অংশ। শুধুমাত্র প্রাথমিক গবেষণার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসুন এবং অন্যদের সঙ্গে গবেষণা করতে শুরু করুন। ডিজাইনিংয়ের প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত সময়, গবেষণা এবং পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক ডেটা তৈরির অপরিহার্য মূলক জানুন।
এবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকার দিকে নজর দিই। প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য কিছু মৌলিক নীতিগুলো রয়েছে:
তথ্য উপস্থাপনায় একটি উদাহরণ হিসেবে Apple এর সাইটকে দেখা যায়, যেখানে তাদের ডিজাইন মানের উপর প্রবেশযোগ্যতা রেখে সর্বশ্রেষ্ঠ কনটেন্ট উপস্থাপন করে। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ডিজাইনিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অগ্রাধিকার সর্বাগ্রে।
চট্টগ্রামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একাধিক অনলাইন কোর্সের জন্য প্রবেশযোগ্যতা নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করেছে যেখানে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্যবহারকারীদের সহায়ক তথ্য দেওয়া হয়েছে।
মজার অঙ্গভঙ্গি নিয়ে বললে, ঢাকার এক যুবক তার পরিবারকে তার ব্যবসার সাইটের দিকে আনা চেষ্টা করছে। সে বলেছে, "মা, আমাদের সাইটের ডিজাইন এত সুন্দর যে আমি তাকে কোনও একটিকে বাচ্চাদের বইয়ের মতো করতে পারি!" সবাই মজা করে হাসতে থাকলেও, এক পরিকল্পনা তা কার্যকরী করেছে।
ভবিষ্যতে ডিজিটাল মালিকানার ক্ষেত্রে প্রবেশযোগ্যতা নিয়ম পাল্টাবে। ম্যাক্রো ইনভেস্টরা ডিজিটাল ডিজাইন এবং ব্যবহারের একটি নতুন অন্তর্ভুক্তির জন্য বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছেন যা বাজারের মানুষকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত, ডিজাইন করার সময় যে বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে তা হলো: সুবোধ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শতভাগ বিবেচনা। যখন ডিজাইনাররা সকলকে চিন্তা করেন না, তখন তারা সমাজে বিরোধ সৃষ্টি করেন। ঝুঁকি নিয়ে প্রবেশযোগ্য ডিজাইন নিরাপত্তার একটি সাক্ষর। এটি সবাইকে একটি সুস্থ ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে।
অন্যদের জন্য আমাদের ডিজাইন সম্পর্কে জাতীয় গর্ব বৃদ্ধি করতে আরও ক্ষণস্থায়ী কাজ করতে হবে। ডিজাইনিংয়ে সবার জন্য একটি সাইট তৈরি করুন, যেখানে সবার গল্প লেখা হয়।