আজকের ডিজিটাল যুগে, প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথেই আমাদের নস্টালজিয়াও ফিরে আসছে। 'রিভাইভিং রেট্রো' বিষয়টি আধুনিক ওয়েব ডিজাইনে কিভাবে আগের যুগের স্টাইল এবং উপাদানগুলোকে পুনর্জীবিত করছে তা নিয়ে এখানে আলোচনা করা হবে।
নস্টালজিয়া হলো সেই অনুভূতি যা আমাদের অতীতকে স্নেহ করে মনে করায়। ২০১৮ সালে করা একটি গবেষণায় জানা যায় যে, ৫৭% মানুষ নস্টালজিয়ার সমুদ্রে তলিয়ে যেতে চান যখন তারা জীবনের চাপের মুখোমুখি হন (Source: Journal of Social Psychology)। ডিজাইনাররাও এই বিষয়টি বোঝেন এবং তাই তারা তাদের কাজের মধ্যে নস্টালজিয়া নিয়ে আসতে চান।
কিছু উদাহরণ দিয়ে শুরু করা যাক। ১৯৭০ ও ৮০ এর দশকের গ্রাফিক্স ডিজাইন এলিমেন্টস, যেমন ভিনটেজ টেক্সচার, সিগনেচার কিউট রঙ এবং চিত্তাকর্ষক টাইপোগ্রাফি, একবারের জন্য যেন সবে আমাদের কাছে ফিরে এসেছে। অ্যাপল, গুগল এবং এর মতো অন্যান্য সংস্থা “ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন” স্টাইলের মাধ্যমে তাদের ইন্টারফেসে রেট্রো এলিমেন্টস নিয়ে আসছে।
যেসব ওয়েবসাইটে ক্লাসিক ফ্ল্যাট ডিজাইন কৌশলগুলি সাধারণ ছিল, সেগুলো এখন আবার আভিজাত্যের একটি ক্যাটালগ হয়ে উঠছে। উদাহরণস্বরূপ, ‘দ্য কিং অফ ফাইটার্স’ ভিডিও গেমের অফিসিয়াল সাইট একটি প্রাচীন গেমিং লুক নিয়ে কাজ করছে যা কয়েক দশক আগে জনপ্রিয় ছিল।
মার্কেটিং গবেষণা অনুযায়ী, ৭০% কনজিউমার মনে করেন যে তাদের পুরনো দিনগুলির স্মৃতির সাথে যুক্ত কিছু নতুন পণ্য বেশি আকর্ষণীয়। এটি নির্দেশ করে যে, রেট্রো ডিজাইন ডিজিটাল বিপণনে একটি কার্যকরী কৌশল হতে পারে।
তবে কেন আমেরিকান তরুণীর এই নস্টালজিক ডিজাইনের দিকে ঝোঁক রয়েছে? এটি আশ্রয়, পরিচয় এবং সংযোগের অনুভূতি প্রদান করে; এটি আমাদের অতিক্রান্ত মুহূর্তগুলি পুনরুজ্জীবিত করে।
যদিও রেট্রো ডিজাইন এলিমেন্টগুলি বর্তমানে জনপ্রিয়, এটি কি দীর্ঘমেয়াদী হবে? আমরা ভবিষ্যতে যে ডিজাইন প্রবণতাগুলি আশা করতে পারি তার মধ্যে “বলবল” বা “প্রোগ্রেসিভ জ্যামিতি” অন্তর্ভুক্ত। তবে নস্টালজিয়া এখনই কার্যকর এবং এটি ডিজাইনারদের জন্য নতুন পথ খুলে দিয়েছে।
২০১৯ সালে, ওয়েবসাইট “নস্টালজিয়া পরিষেবা” তাদের নতুন ‘রেট্রো থিম’ লঞ্চ করলো। তারা নিজেদের মতামত নিয়েছিল এবং ৩৬৫ দিনের মধ্যে প্রবৃদ্ধি ১২০% পেয়েছিল। তাদের গ্রাহকরা বলেছিলেন যে, এটি তাঁদের অনুভূতি এবং স্মৃতির সাথে গভীরভাবে যুক্ত, যা তাদের আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে।
জিনিসগুলো যেমন প্রাচীন হয়ে যায়, নতুনটির প্রতি আকর্ষণ আরও বেড়ে যায়। তাই, প্রাচীন ডিজাইন উপাদানগুলো একবার আবার আধুনিক দুনিয়ায় ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। তাদের মধ্যে কিছু প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: অতীতের ফন্ট স্টাইল, উজ্জ্বল রঙের স্কিম, এবং ভিন্ন ভিন্ন কাঠামো।
এখন ডিজাইনে নস্টালজিয়া নিয়ে আসার আরেকটি উপায় হলো এটি ডিজাইনারদের তাদের সৃজনশীলতায় অনুপ্রাণিত করে। ৩১ বছর বয়সী ডিজাইনার ম Ri আহমেদ যখন তিনি নস্টালজিক এলিমেন্টগুলি ব্যবহার করেন, তখন তিনি বলেন, "এটি আমার জন্য তৈরি, একটি নিজেদের গল্প তুলে ধরার মঞ্চ।”
অবশ্য বিভিন্ন বয়সী ডিজাইনাররা তাদের কাজের মধ্যে পৃথক পৃথক সময়গুলির মতো নস্টালজিয়ার ধারণা প্রয়োগ করতে পারেন। ইন্টারনেট ২.০ যুগের ‘স্যোশাল মিডিয়া’ ওয়েবের এক নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে তবে এটি অতীতের একটি নতুন লুক নিয়ে এসেছে।
আজকের年轻 প্রজন্ম ভিনটেজ অনুভব করতে চায়। তারা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তাদের জন্য একটি রেট্রো রূপ নেয়।
গত বছর, প্যাট্রিক ও কেলি নামে দুই ডিজাইনার একত্রে একটি ছোট ইভেন্টের আয়োজন করেন। তারা নিজেদের ওয়েবসাইটের জন্য রেট্রো থিমের উপর ভিত্তি করে আয়োজন করেছিলেন। ডিজাইনের মূল মজাটি ছিল সেখানকার প্রচারপত্র, যা ১৯৮০ এর দশকের ফলক বিক্রির শৈলীতে তৈরি করা হয়েছিল। পর্যায়ক্রমে শহরের শতাধিক মানুষ খুঁজে এসেছিল, যেখানে খেলার মতো অনুভূতি ফিরে এসেছিল।
বর্তমানে ভিজ্যুয়াল আউটপুট ডিজাইনে রেট্রো এলিমেন্টের প্রবণতা প্রচেষ্টা নিচ্ছে। এই প্রবণতাগুলি হলো পিক্সেল আর্ট, ম্যাডোনাের এলবাম কভারগুলির মতো এক্সপ্রেশনিজম, এবং সিটকম থিমের উৎসব। তবে সবাই জানেন যে, কিছু স্থায়ী এলিমেন্টগুলি 'এখনো অপ্রীতিকর' হয়ে থাকা উচিত যদি নস্টালজিয়া সত্যিই স্থায়ী হবে।
ওয়েবসাইটের পরিকল্পনায় স্বাচ্ছন্দ্য এবং অভিনবত্বের কারণে ডিজাইনাররা ক্রমাগত নতুন ধারণা নিয়ে আসছেন। পুরনো আবহের সাথে নতুন প্রযুক্তির মিশ্রণ তরুণ প্রজন্মের কাছে পথ দেখাচ্ছে। এটি কেবল নতুন কিছু নয়, বরং একটি স্বল্প সময়ের পপ কালচারাইটে সংযোগ করা যায়।
অবশেষে, ডিজাইন উপলব্ধি করা উচিত নস্টালজিয়ার উপর ভিত্তি করে। ডিজাইনারদের কেবল পুরানো ডিজাইন এলিমেন্টগুলি নেওয়া নয়, বরং সেগুলি নতুন আঙ্গিকে পুনর্মিলন ঘটানো দরকার। উদাহরণ স্বরূপ, জ্যামিতিক শৈলীর জন্য অভিজাত জায়গায় জায়গা তৈরি হচ্ছে।
আমরা বিশ্বে যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, আশা করি ডিজাইন জগতে নস্টালজিয়াও রয়েছে। সুতরাং, ডিজাইনাররা এক জায়গায় ফিরে আশা করার জন্য অপেক্ষা করছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি ও আধুনিকতা একত্রিত হয়ে উদ্ভাবনী স্বপ্ন দেখাতে পারে।
সর্বশেষে, নস্টালজিয়া ডিজাইন করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। এর মাধ্যমে আধুনিক ওয়েবের কাজ ও সফলতার জন্য সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হচ্ছে যা সবার মনে সিক্ত থাকবে।